শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৯ পূর্বাহ্ন

৪৫ বছর পর জিয়ার খুনি মোজাফফর গ্রেফতার

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬
  • ২৯ বার পড়া হয়েছে

জনতার কন্ঠ ডেস্ক 

৪৫ বছর ছদ্মবেশে থেকেও শেষ রক্ষা হলো না! একটি মাত্র ভুলেই ধরা পড়লেন জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মেজর (অব.) মো. মোজাফফর হোসেন।১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তিনি ছিলেন পলাতক। আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন, কিন্তু এরপর চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাগালের বাইরে ছিলেন।গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, এই দীর্ঘ সময়ে তিনি নিজের পুরোনো পরিচয় প্রায় মুছে ফেলেছিলেন। নাম পরিবর্তন, চেহারা ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন, পুরোনো পরিচিতদের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা, এমনকি নতুন পরিচয়ে নিরিবিলি জীবনযাপন। শেষ জীবনে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএসে বসবাস শুরু করেন একজন সাধারণ অবসরপ্রাপ্ত বৃদ্ধ হিসেবে। প্রতিবেশীদের অনেকেই জানতেন না, তাদের পাশের বাসিন্দাই দেশের ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, গোয়েন্দারা তার মেয়ের কর্মস্থলকে কেন্দ্র করে কয়েক মাস ধরে নজরদারি চালান। সম্ভাব্য ঠিকানা নিশ্চিত হওয়ার পর শুরু হয় গোপন পর্যবেক্ষণ। মোজাফফরের পুরোনো নথিতে উল্লেখ থাকা একটি জন্মচিহ্ন, নাকের নিচের ছোট একটি আঁচিল, তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে ওঠে।এরপর বুধবার গভীর রাতে চালানো হয় অভিযান। ডিবি সদস্যরা নিজেদের একটি টেলিকম প্রতিষ্ঠানের কর্মী পরিচয় দিয়ে বাসার দরজায় যান। দরজা খুলে বৃদ্ধ ব্যক্তি যখন জানতে চান এত রাতে কী কাজ, তখন কর্মকর্তারা তার মুখের জন্মচিহ্নটি মিলিয়ে দেখেন। পরে পরিচয় জানতে চাইলে তিনি নিজেই বলেন, “আমি মোজাফফর, মেয়ের বাবা।”এই একটি বাক্যই শেষ করে দেয় ৪৫ বছরের গোপন জীবন। মুহূর্তেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।ইতিহাস বলছে, ১৯৮১ সালের রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সামরিক তদন্ত ও বিচার শেষে ১৩ জন সেনা কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজনের সাজা কার্যকর হলেও মোজাফফর হোসেন এতদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন। অবশেষে ২০২৬ সালে এসে তার গ্রেপ্তারের মাধ্যমে দেশের দীর্ঘদিনের অন্যতম আলোচিত পলাতক আসামির অধ্যায়ে নতুন মোড় এলো।সময়ের ব্যবধান যত দীর্ঘই হোক, অনেক মামলায় তদন্ত থেমে থাকে না। কখনও কখনও একটি ছোট সূত্র, একটি জন্মচিহ্ন, কিংবা নিজের মুখে বলা একটি পরিচয়ই বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা ছদ্মবেশ ভেঙে দিতে পারে।আপনার মতে, ৪৫ বছর পর এই গ্রেপ্তার বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় পলাতক আসামি গ্রেপ্তারের ঘটনা কি না? মতামত জানাতে পারেন।

সংবাদটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ