বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫০ অপরাহ্ন

সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল-এর বিরুদ্ধে আদালতে দ্রুত বিচার আইনে মামলা।

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১১৮ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে
‎টাঙ্গাইল-৮ ( বাসাইল- সখিপুর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী লাবীব গ্রুপের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল-এর বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে টাঙ্গাইল আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারী ২৬) মির্জাপুর উপজেলার বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মোঃ সুজন মিয়া বাদী হয়ে টাঙ্গাইল দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ গোলাম মাহবুব খাঁন-এঁর আদালতে হাজির হয়ে আইন শৃংঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন ২০০২ এর ৪/৫ ধারা অনুযায়ী মামলার আবেদন করেন। আদালত আবেদন আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানা (মির্জাপুর) এর অফিসার ইনচার্জকে অভিযোগকারী কর্তৃক দাখিলকৃত অভিযোগটি এফ আই আর হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দেন।
‎মামলায় সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলকে আট নম্বরসহ চুয়াল্লিশ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও একশত পঞ্চাশ জনকে অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে ।
‎মামলায় প্রধান আসামী করা হয়েছে টাঙ্গাইল-৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য খান আহমেদ শুভকে। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য আসামীরা হলেন- মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মীর শরীফ মাহমুদ, সাধারন সম্পাদক তাহারিম হোসেন সীমান্ত, তার ব্যক্তিগত সহকারী মীর আসিফ অনিক, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম, গোড়াই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ (পশ্চিম) সভাপতি হাজী হুমায়ূন কবির, ছাত্রলীগ সদস্য খান আহমেদ জয়নাল।
‎মামলার বিবরনে আট নং আসামী সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক সংসদ সদস্য এবং ঢাকা দক্ষিনের সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপসের ব্যবসায়িক পার্টনার ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন নিপীড়নের অর্থ যোগানদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলা সম্পর্কে সালাউদ্দিন আলমগীর -এর বক্তব্য:
স্বতন্ত্র প্রার্থী  সালাউদ্দিন আলমগীর তাঁর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল বলে মন্তব্য করেছেন।এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “ছাত্রদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের বিরুদ্ধে আমার কোনো অবস্থান ছিল—এমন অভিযোগ সারাজীবন তপস্যা করেও কেউ প্রমাণ করতে পারবে না। শুধু তাই নয়, কোনো ধরনের অনৈতিক বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে আমার সম্পৃক্ততা কিংবা ফান্ডিংয়ের প্রমাণও কেউ দিতে পারবে না। কারণ আমি সারা জীবন কোনো অন্যায়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না।”তিনি আরও বলেন, “ইতিপূর্বে আমার বিরুদ্ধে যেসব ষড়যন্ত্র ও মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে, তার সবই মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না এবং ভবিষ্যতেও হবে না।”শীতবস্ত্র বিতরণ প্রসঙ্গে সালাউদ্দিন আলমগীর বলেন, “ওই সময়ে দরিদ্র মানুষের জন্য শীতবস্ত্র বিতরণের উদ্দেশ্যে দেশের প্রায় সব ব্যাংকই প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে কম্বল প্রদান করেছিলো। মধুমতি ব্যাংকও করেছে।”নিজের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আমার কোনো ব্যবসায়িক সম্পর্ক নেই। আমার ব্যবসা মূলত এক্সপোর্ট ও ব্যাংকিং খাতে। আর ব্যাংকে পার্টনারশিপ নয়, শেয়ারহোল্ডারশিপ থাকে। যেকোনো ব্যক্তি শেয়ার কিনে শেয়ার হোল্ডার হতে পারে। ব্যাংক একটি প্রতিষ্ঠান, এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হয়। আমাকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ব্যক্তির ব্যবসায়িক পার্টনার হিসেবে উপস্থাপন করা হয়—যা সম্পূর্ণ অসত্য।”মামলার বাদী সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার বাদী মোঃ সুজন মিয়া প্রকৃতপক্ষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কোনো নেতা নন; তিনি গোড়াই ইউনিয়ন শ্রমিক দলের যুগ্ম সম্পাদক।”তিনি অভিযোগ করেন, “যারা এতো দিন নির্যাতিত হতো তারা এখন দলীয় প্রধানের নির্দেশ অমান্য করে নির্যাতনকে হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে। নির্বাচনের প্রাক্কালে কোনো প্রার্থীকে ঘায়েল করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের মামলা একটি পরিকল্পিত অপচেষ্টা। এটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও নির্বাচনী স্বচ্ছতার জন্য গভীরভাবে উদ্বেগজনক।”

সংবাদটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ