বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১৫ অপরাহ্ন

প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহিন কখনোই বিশ্বাস করেননি যে ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাত্র আট মাসের মাথায় শেখ হাসিনার পতন ঘটতে পারে।

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ২৪৮ বার পড়া হয়েছে

জনতার কন্ঠ ডেস্ক 

প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহিন কখনোই বিশ্বাস করেননি যে ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাত্র আট মাসের মাথায় শেখ হাসিনার পতন ঘটতে পারে। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুরের পরও তিনি আপিল বিভাগের অন্য বিচারপতিদের নিয়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনাকে আইনগত সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা চালান। সেনাপ্রধানের ভাষণের পর একটি রায় দেওয়ার নির্দেশও আসে হাসিনার পক্ষ থেকে—এমনটি নিশ্চিত করেছে একাধিক উচ্চপদস্থ সূত্র।হাসিনা গণভবন ছাড়ার পর ওবায়দুল হাসান লুঙ্গি-গেঞ্জি পরে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে প্রধান বিচারপতির বাড়ি ত্যাগ করে কাকরাইলের জাজেস কমপ্লেক্সে আশ্রয় নেন। সেখান থেকেই তিনি ফুল কোর্ট রেফারেন্স সভা ডাকেন, যা অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ–ভারত চক্রের ষড়যন্ত্র হিসেবে চিহ্নিত হয়। ছাত্র আন্দোলন ও সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত সভাটি পণ্ড হয়ে যায়।হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রীয় কাঠামো তৈরিতে ওবায়দুল হাসানের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি ১১টি মামলায় ফরমায়েশি রায় দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে নিজের ভাইকে দু’দফা বিনা ভোটে এমপি বানানো, বিতর্কিত নির্বাচন কমিশন গঠন, ডিবি হারুনের সোনার তরবারি গ্রহণ এবং ছাত্রলীগ নেতাদের ফুল নেওয়াসহ নানা বিতর্কে তিনি জড়ান।৫ আগস্ট আন্দোলন তীব্র হলে সুপ্রিম কোর্টে ভার্চুয়াল বৈঠকে তিনি আদালত ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। সূত্র জানায়—সেনাপ্রধানের ভাষণের পর ‘একটি রায় দিতে হতে পারে’ এমন নির্দেশও পান তিনি। কিন্তু লাখো মানুষের মিছিল ঢাকায় ঢুকে পড়ায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ বাড়ি ছেড়ে পালায়, এবং ওবায়দুল নিজেও পরিবারসহ অ্যাম্বুলেন্সে করে এলাকা ত্যাগ করেন।হাসিনার পতনের পরও তিনি ১০ আগস্ট ফুল কোর্ট রেফারেন্স মিটিং ডাকেন, যার এজেন্ডা না জানানোয় হাইকোর্টের ১১ বিচারপতি অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের কঠোর অবস্থান এবং সুপ্রিম কোর্ট ঘেরাওকারী শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে ওই সভা বাতিল হয় এবং ওবায়দুল শেষ পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন।পরবর্তীতে জানা যায়—তিনি ছাত্রলীগের কাছ থেকে ফুল, ডিবি হারুনের কাছ থেকে তরবারি গ্রহণসহ আচরণবিধি লঙ্ঘনের একাধিক ঘটনায় জড়িত ছিলেন। আওয়ামী আমলে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল থেকে শুরু করে হাইকোর্ট, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও আপিল বিভাগের বিচারপতি হয়ে ২০২৩ সালে প্রধান বিচারপতির পদে তিনি পৌঁছান। এছাড়া তার ভাই সাজ্জাদুল হাসানও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দুইবার এমপি হন, যা ওবায়দুলের রাজনৈতিক প্রভাবের ফল বলে জানা যায়।

সংবাদটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ