সোমবার, ২০ মে ২০২৪, ০৩:০১ অপরাহ্ন

সাজানো মামলায় জেল হাজতে ফরিদ

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৮ মার্চ, ২০২৪
  • ১১১ বার পড়া হয়েছে

টাঙ্গাইলের সখিপুরে সাজানো মামলায় দরিদ্র ভ্যানচালক ফরিদ মিয়াকে মোট সাড়ে চার বছরের জেল দেওয়ার অভিযোগ করেছে তার স্বজনরা।

টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার বোয়ালী গ্রামের হতদরিদ্র ভ্যানচালক ফরিদ মিয়া,পেশায় একজন ভ্যানচালক।স্ত্রী ও এক ছেলেকে নিয়ে ছোট্ট সংসার  সারাদিন ভ্যান চালিয়ে সামান্য উপার্জনে ধিকে ধিকে অনাহারে অধাহারে চলে। এক শতাংশ জায়গা নেই নিজের,সরকারি খাস জায়গায় কোনোমতে একটি বসতভিটা গড়ে সেখানেই জীবন নামক ঘর সংসার।মাত্র এটুকু সুখও তার প্রতিবেশী স্বচ্ছল পরিবার আবুল মিয়াসহ কতিপয় সমাজের দুঃস্কৃতিকারী মামলাবাজ শ্রেণীর মানুষগুলোর গায়ে সয়নি।বিগত ২০১৯ ইং সনের ২৮ ফেব্রুয়ারী বিকাল আনুমানিক ৩ টায় হতদরিদ্র ভ্যানচালক ফরিদ মিয়ার নিজ বাড়ির পাশে আবুল মিয়া তার স্ব পরিবারে দল-বল নিয়ে আসে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে গায়ে পড়ে ঝগড়া করতে,এদিকে ফরিদ মিয়ার সাথে তারই বাড়ির পাশে প্রতিপক্ষের কথা-কাটাকাটি দেখে তার স্ত্রী জয়নব ও ছেলে জাহাঙ্গীর এগিয়ে আসেন।একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মাঝে সামান্য হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে,এতে আবুল মিয়া পড়ে গিয়ে একটি গাছের সাথে লেগে মাথার এক অংশে সামান্য কেটে রক্ত বের হয়।আর এই সামান্য গ্রাম্য ঝগড়াঝাটিকে আবুল মিয়ার পরিবার টাকার জোরে থানা পুলিশ এবং কি একটি বানোয়াট মিথ্যা মামলা পর্যন্ত গড়ায়।টাকার জোরে অহেতুক আবুল মিয়াকে সখিপুর হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে একটি মিথ্যা ডাক্তারী সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে থানায় একটি বানোয়াট মামলা দায়ের করেন।যা করতে আবুল মিয়াকে বেশ মোটা অংকের টাকা খরচও করতে হয়।এরপর ঘটনার দীর্ঘ ১৭ দিন পরে আবুল মিয়াকে টাকার জোরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পর্যন্ত নিয়ে ভূয়া মেডিক্যাল সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে ১৭ মার্চ সখিপুর থানায় একটি বানোয়াট মিথ্যা মামলা দায়ের করে তা রেকর্ড করাতে সক্ষম হন।সখিপুর থানার মামলা নং ১২ তারিখ ১৭/৩/১৯ ইং। এতকিছু করার কারণ একটিই তা হলো ভ্যানচালক হতদরিদ্র ফরিদ মিয়াকে আদালতে বিচারের মাধ্যমে শাস্তি নিশ্চিত করা।দীর্ঘদিন মামলাটি বিজ্ঞ আদালতে চলা অবস্থায় ভ্যান চালক ফরিদ মিয়া অনেকটা কষ্ট করে ধারদেনা করে মামলার খরচ ও পরিবারের ভরনপোষণ নিয়ে হিমশিম অবস্থা।এরইমধ্যেই বিগত ৫ মার্চ ফরিদ মিয়ার অনুপস্থিতিতে তাকে পলাতক দেখিয়ে টাঙ্গাইল জেলার বিজ্ঞ চিফ জুটিশিয়াল ম্যাজিঃ মোঃ মোস্তফা শাহরিয়ার খানের আদালত তাকে যথাক্রমে ৩২৬ ও ৩০৭ ধারা সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণ হওয়ায় ২ বছর করে মোট ৪ বছরের স্বশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।সেই সাথে উভয় ধারায় অতিরিক্ত সাজা হিসেবে দশ হাজার করে মোট বিশ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাস করে মোট ৬ মাসের স্বশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। এ খবর জানার পর থেকেই ফরিদ মিয়ার স্ত্রী সন্তান নিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।খুঁজ নিয়ে জানা যায়,ফরিদ মিয়া গ্রামে একজন সহজ সরল ও ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত।তার এমন দুঃসংবাদ শুনে আত্নীয় স্বজনসহ পুরো গ্রামবাসী শোকে কাতর হয়ে পড়েছেন।

১৩ মার্চ ফরিদ মিয়া আদালতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আত্নসমর্পণ করলে,বিজ্ঞ আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। এ বিষয়ে প্রতিবেদকের সাথে মুঠোফোনে কথা হয় ভ্যানচালক ফরিদ মিয়ার স্ত্রী জয়নব বেগমের সাথে।তিনি ফোন ধরেই হাউমাউ করে কেঁদে বলেন,”আমার স্বামী একজন সহজ সরল মানুষ।ওরা আমার স্বামীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে,ওরা নিজেদের ছেলে-মেয়ে,ভাই,ভাই বউ মিলে মিথ্যা সাক্ষী দিয়ে আমার স্বামীকে জেলে পাঠিয়েছে।আমরা গরীব অসহায় মানুষ,আমরা ওদের কিছুই করতে পারবোনা,কিন্তু এর বিচার যেন আল্লাহ্ই একদিন করেন।আমার পরিবারের একমাত্র উপার্জন আমার স্বামীর ভ্যান চালিয়ে,সেও বন্ধ হয়ে গেলো,এখন আমি আমার এই ছেলেটাকে নিয়ে কি করে খেয়েপড়ে বাঁচবো?আপনারা সাংবাদিক আমি আপনাদের মাধ্যমে সরকারের কাছে এর ন্যায় বিচার চাই।

সংবাদটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ