বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ০১:০৫ পূর্বাহ্ন

একজন নাজিম মাস্টার ‎ও ‎বিএনপি’র ঘুরে দাঁড়ানো

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

‎একজন নাজিম মাস্টার
‎ও
‎বিএনপি’র ঘুরে দাঁড়ান
আনোয়ার কবির

বিএনপি’র ঘুরে দাঁড়ানো
‎রাজনীতির পিচ্ছিল পথের প্রতিটি বাঁকে বাঁকে থাকে হাজারো ক্লাইমেক্স। সরকারি দলে থাকলে ক্ষমতার দাপট, ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ, দূর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অবৈধ অর্থের হাতছানি ইত্যাদি আবার বিরোধী ভূমিকায় থাকলে সরকারে জেল-জুলুম, অত্যাচার-নির্যাতন, হামলা-মামলা শত সহস্র নির্যাতন সয়ে যাওয়ার আশ্চর্যজনক ক্ষমতা নিয়েই জন্মায় প্রতিটি রাজনীতিবিদ। এসবই আমাদের উপমহাদেশে রাজনীতির নির্মম বাস্তবতা, শেখ মুজিব থেকে শুরু করে আজকের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান পর্যন্ত একই চিত্র। এবার প্রসঙ্গে আসি …১৯৭৮ সালে বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হবার পর সখিপুর-বাসাইলে এবারই প্রথম সাধারণ ভোটারদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ভোট ও সর্বোচ্চ আস্থার জায়গার রয়েছে দলটি।
‎এখানে যেমন মাননীয় এমপি ও মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী এড. আহমেদ আযম খানের হার না মানা ধৈর্য্য এবং তাঁর রয়েছে দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারন মানুষকে ভালোবাসার এক জাদুকরী ক্ষমতা।
‎অপরদিকে এড. আহমেদ আযম খান সাহেবকে যোগ্য রাজনৈতিক সঙ্গ দেওয়া, নেতা-কর্মীদের মধ্যে অবিচল আস্থা তৈরী করা এবং সততার উজ্জ্বল উদাহর হয়ে সকলের সামনে হাজির হয়েছিলেন সখিপুর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাজিম উদ্দিন মাস্টার।
‎১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসকরা ৫ আগষ্ট ২৪ পালিয়ে যাওয়ার পর সারাদেশে বিএনপি অপ্রতিরুদ্ধ একক রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়। সবাই ধরেই নিয়েছিল যেহেতু রাজনীতির মাঠের প্রতিপক্ষ আ’লীগ দেশ ছেড়ে পালিয়েছে এখন মাঠে আর বিএনপি’র প্রতিপক্ষই নেই। ক’দিন পরেই নির্বাচন হবে, সখিপুর-বাসাইলে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর বিএনপি এমপি পেতে যাচ্ছে, শুধু সময়ের অপেক্ষা মাত্র। কিন্তু সখিপুরের মানুষ তখইন দেখলো একেক পর এক একেবাই অহেতুক, অপ্রয়োজনীয়, অযাচিত, অপ্রত্যাশিত বিতর্কিত কর্মকান্ড। যা সামাজিক মাধ্যমে একের পর এক ভাইরাল হতে থাকে আর বিএনপি’র জনপ্রিয়তা আশ্চর্যজনক ভাবে হ্রাস পেতে পেতে তলানীতে গিয়ে ঠেকে। সর্বশেষ একটি বিশাল সংখ্যার দায়িত্বশীল নেতাদের একযোগে পদত্যাগ, দলের সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা, তাদের স্বার্থপর ও হটকারী সিদ্ধান্তের কারনে বিএনপির ৩০ বছরের লালিত স্বপ্ন, সাধনা ও আকাঙ্খার বিজয় হাতছাড়া হওয়ার দ্বারপ্রান্তে গিয়ে ঠেকে। এমন টালমাটাল অস্থির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দৃশ্যপটে হাজির হন নাজিম উদ্দিন মাস্টার। ১৯৭১ সালে ২৬ মার্চ যেমন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে বলেছিন “আমি মেজর জিয়া বলছি, আমি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনা করছি” তাঁর এই একটি বাক্য পূর্ব বাংলার ৫৬ হাজার বর্গমাইলের প্রত্যেকটি কোনায় কোনায় বিদ্যুতের মত ছড়িয়ে পড়েছিল, একবুক সাহস নিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে বিজয় ছিনিয়ে জন্ম দিয়েছিল এই বাংলাদেশের। ঠিক তেমনি ৫ আগষ্টের পর মাত্র দেড় বছরে বিএনপি জনপ্রিয়তা তলানীতে নিয়ে ভঙ্গুর এবং বেইমানীতে বিধ্বস্ত দলটিকে নিজের শ্রম, মেধা, যোগ্যতা ও সাহসিকতার অপূর্ব সমন্বয় ঘটিয়ে এড. আহমেদ খানের পাশে অপ্রতিরোধ্য দূর্ঘ হয়ে দাঁড়ান সেই নাজিম উদ্দিন মাষ্টার। দীর্ঘদিনের পরিক্ষিত বাঘা বাঘা নেতারা যখন দলের পেছনে ছুরি মেরে দলকে ক্ষত বিক্ষত করছিল এবং বিএনিপির সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করে হরিণের মাংস খাওয়া শুরু করেছিল এড. আহমেদ আযম খান সাহেব যখন একেক পর এক চেনা মুখ গুলোকে অচেনা হতে দেখছিলেন এবং তাদের এমন স্বার্থপর আচরনে দিশেহারা হয়ে পড়ছিলেন তখন এই নাজিম উদ্দিন মাষ্টার তাঁর রাজনৈতিক স্থিরতা, প্রজ্ঞা, মেধা ও সততা দিয়ে তৃনমূলের নেতা-কর্মীদের আস্থার ঠিকানায় পরিণত হন। তৃনমূলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে গড়ে তোলেন ইস্পাত কঠিন ঐক্য। ফলে তৃনমূলের নেতা-কর্মীরা লক্ষ-কোটি টাকার হাতছানি পায়ে ঠেলে জাতীয়তাবাদের পতাকা উঁচিয়ে ধরেন। মিথ্যে হতে যাওয়া স্বপ্নকে বাস্তবে রুপদেন, ছিনিয়ে আনেন বিএনপি’র বিজয়কে। বিএনপি এমপি হয়েছে, মন্ত্রী হয়েছে, সখিপুর- বাসাইলে বিএনপি এখন ইতিহাসের সবচেয়ে ভালো সময় পার করছে।
‎এই ভালো সময়ে বিএনপি যেন লাখ টাকার বান্ডিলকে লাথি মেরে সড়িয়ে দেওয়া তৃণমূলের সাধারন কর্মীটাকে ভুলে না যায়, নাজিম উদ্দিন মাস্টারের মত সৎ রাজনীতিক কর্মীকে যেন ভুলে না যায়, খোরশেদ আলম মাস্টার, আমজাদ হোসেন মাস্টারের মত সম্পদকে যেন ভুলে না যায়, তাঁরা যেন হারিয়ে না যায়, তাঁরা যেন মূল্যায়িত হয়।
‎কারন নাজিম উদ্দিন মাষ্টারদের দলের কাছ থেকে নেওয়ার কিছু নেই বরং দলেরই অনেক কিছু নেওয়ার এখনও বাকি তাদের কাছ থেকে।
‎বাংলাদেশে বর্তমানে ৬৩৯টি থানা এবং ৫০০টি উপজেলা আছে বাংলাদেশের একটি উপজেলা বিএনপির সভাপতি/ সম্পাদক পাবেন না যিনি এখনও কিন্ডার গার্ডেন স্কুলে শিক্ষকতা করে জীবন ধারন করেন, জীবিকার প্রয়োজনে এখনও দিনে চারঘন্টা প্রাইভেট টিউশনি করে সংসার চালান। তাঁর ঘোর শত্রুও বলতে পারবে না তিনি অবৈধ অর্থ ছুঁয়েছেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।
‎তাঁর হয়তো দশটা হোন্ডা বা বিশটা গুন্ডা নেই কিন্তু তাঁর যা আছে তা হাজার বা লক্ষ মানুষের মাঝেও খুঁজে পাওয়া যাবে না। আজ থেকে ঠিক ২০ বছর আগে এমনই এক দুঃসময়ে যখন সখিপুর পৌর বিএনপির সভাপতি পদ থেকে মীর শামসুল আলম পদত্যাগ করে আ’ লীগে যোগ দেন তখন দলের প্রয়োজনে এই নাজিম উদ্দিন মাষ্টারকে ডেকে এনে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল পৌর বিএনপির। দায়িত্ব পালন শেষে তিনি আবার ফিরে গিয়েছিলেন তাঁর কর্মস্থলে সেই কিন্ডার গার্ডেন স্কুলে শিক্ষকতা পেশায়। যেমন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়ে ৯ মাস রনাঙ্গনে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করে আবার ফিরে গিয়েছিলেন তার সেনা জীবনে। আবার ৭৫ সালের ৩-৭ই নভেম্বর একের পর এক বিপ্লব, প্রতি বিপ্লবের পর জাতির প্রয়োজনে সিপাহী জনতা মিলে মেজর জিয়াকে বন্দি দশা থেকে মুক্ত করে তাঁর হাতে রাষ্ট পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দিয়েছিল। মেজর জিয়া যেমন নিজের প্র‍য়োজনে রাষ্ট্রপরিচালনা করতে আসেননি, রাষ্ট্রের প্রয়োজনে তাঁর হাতে রাষ্ট্রের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছিল ঠিক তেমনি নাজিম উদ্দিন মাষ্টার নিজের প্রয়োজনে দলের দায়িত্ব নিতে আসেননি বরং তাঁর উপর এসে দলের দায়িত্ব পড়েছিল।
সফল ভাবে দায়িত্ব পালন শেষে তিনি হয়তো আবারও ঘরে ফিরে যাবেন কিন্তু বিএনপির উচিত হবে দলের প্রয়োজনে এমন সম্পদকে সঠিক ভাবে ব্যবহার করা।

‎লেখাটি যদিও অনেক লম্বা হয়ে গেলো তবুও
‎ আর একটি কথা বলেই শেষ করবো…
‎বাংলাদেশের রাজনীতিতে আমরা আমজনতা কোন নির্বাচন এলে সৎ ও যোগ্য প্রার্থী খুঁজে বেড়াই, শ্লোগান তুলি, চিৎকার করে গলা ফাটাই সৎ ও যোগ্য প্রার্থী চাই।
‎আমি আজও জানি না আসলে তাদের সৎ ও যোগ্য প্রার্থী কেমন সৎ ও কেমন যোগ্য। এই প্রশ্ন আমাকে কেউ করলে আমি বলবো আমি নাজিম উদ্দিন মাষ্টারের মত সৎ ও যোগ্য প্রার্থী চাই। যার কাছে ভোট হবে আমানত, চেয়ার হবে দায়িত্ব, আর সেবা হবে ধর্ম।
‎যদিও তিনি কোথাও কোন নির্বাচনে প্রার্থী হবেন কিনা আমি জানিনা, এখনও পর্যন্ত এমন কোন ঘোষনা আমি শুনিনি। নাজিম উদ্দিন সাহেবের বৈশিষ্ট্য থেকে আমি যেটুকু বুঝি তিনি নিজে থেকে হয়তো কোন দিনই বলবেন না আমি অমুকটা হতে চাই। ভোটের হাটে যে পরিমান অর্থের প্রয়োজন হবে তার কানা কড়িও হয়তো ওনার নেই, তবে বিএনপিরই উচিত হবে তাঁকে ডেকে এনে কোন একটা জায়গায় দাঁড় করানো। সখিপুর পৌরসভায় নাজিম মাষ্টারই হতে পারে বিএনপি’র ট্রামকার্ড

‎আনোয়ার কবির
‎গণমাধ্যমকর্মী
‎১ জুলাই ২৬

সংবাদটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ