বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:০২ পূর্বাহ্ন

টাঙ্গাইল -৮আসনে তিন প্রার্থীর হলফনামা যা রয়েছে

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৪ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৭২ বার পড়া হয়েছে

জনতার কন্ঠ ডেস্ক 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনে হলফনামা জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখিপুর) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান তাঁর হলফনামায় মামলা, আয় ও সম্পদের তথ্য উল্লেখ করেছেন।হলফনামা অনুযায়ী, পেশায় তিনি একজন আইনজীবী। তাঁর বিরুদ্ধে মোট ১০টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি মামলা আদেশের অপেক্ষায় রয়েছে, একটি মামলা থেকে তিনি খালাস পেয়েছেন এবং সাতটি মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।আয়ের উৎসের ঘরে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। তবে অস্থাবর সম্পদের হিসাবে তাঁর নগদ অর্থ ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং স্ত্রীর নগদ অর্থ ১১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে। ঢাকা ব্যাংকে তাঁর নামে জমা রয়েছে ৬ লাখ ২২ হাজার ১৪৬ টাকা এবং অগ্রণী ব্যাংকে স্ত্রীর নামে জমা রয়েছে ৩ লাখ ২২ হাজার ১৩৩ টাকা।বন্ড ও শেয়ারে তাঁর বিনিয়োগ ১১ লাখ ১৯ হাজার ৯১০ টাকা এবং স্ত্রীর রয়েছে ১১ লাখ ৯৯৬ টাকা। ব্যাংকে স্থায়ী আমানত হিসেবে তাঁর নামে রয়েছে ৫৪ লাখ ২৭ হাজার ৮০০ টাকা এবং স্ত্রীর নামে রয়েছে ৮৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা।যানবাহনের তালিকায় রয়েছে ৪৩ লাখ টাকা মূল্যের একটি হার্ড জীপ ও ১৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা মূল্যের একটি প্রাইভেটকার। স্বর্ণালঙ্কারের হিসাবে তাঁর ১৫ ভরি স্বর্ণের মূল্য দেখানো হয়েছে ২০ লাখ টাকা। স্ত্রীর নামে রয়েছে ২১ ভরি স্বর্ণালঙ্কার। এছাড়া ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী ও ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার আসবাবপত্রের তথ্য উল্লেখ রয়েছে।হলফনামায় তাঁর অস্থাবর সম্পত্তির মোট বর্তমান মূল্য দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৭০ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং স্ত্রীর অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য ১ কোটি ৪০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে অর্জনকালীন থেকে বর্তমান মূল্য হিসেবে তাঁর নামে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ১৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।দায় হিসেবে তিনি ৫৬ লাখ টাকা এবং তাঁর স্ত্রী ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকার দায় দেখিয়েছেন। আয়কর বিবরণীতে ২০২৫–২৬ অর্থবছরে তিনি ১০ লাখ ৩৯ হাজার ৭৭২ টাকা এবং তাঁর স্ত্রী ৭ লাখ ৭৮ হাজার ২৮২ টাকা আয়কর দিয়েছেন বলে উল্লেখ রয়েছে।

টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল–সখিপুর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন লাবিব গ্রুপের চেয়ারম্যান শিল্পপতি সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল। বিদেশি নাগরিকত্ব পরিত্যাগের পর তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন।মনোনয়নপত্রে দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলের নিজের নামে নগদ তহবিল রয়েছে ১২ কোটি ৯১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬৫ টাকা এবং তাঁর স্ত্রীর নামে রয়েছে ৭ কোটি ২৯ লাখ ৮০ হাজার ৮৬৩ টাকা। ব্যাংকে জমা অর্থ হিসেবে তাঁর নামে রয়েছে ৩১ লাখ ১৫ হাজার ২১৫ টাকা, আর স্ত্রীর নামে জমা আছে ৩ কোটি ৭০ লাখ ৫১ হাজার ৭৯৪ টাকা।বন্ড ও কোম্পানি শেয়ারে অর্জনকালীন বর্তমান মূল্য দেখানো হয়েছে তাঁর নামে ৭০ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৪৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা। যানবাহনের ক্ষেত্রে তাঁর নিজের নামে কোনো গাড়ি নেই, তবে স্ত্রীর নামে রয়েছে ৩ কোটি ২২ লাখ ৯০ হাজার টাকা মূল্যের গাড়ি।স্বর্ণালঙ্কারের হিসাবে তাঁর নিজের নামে রয়েছে ৮০ তোলা স্বর্ণ, যার মূল্য ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা। স্ত্রীর নামে রয়েছে ৮০ ভরি স্বর্ণ ও ৪ সেট হিরা, যার মোট মূল্য ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ইলেকট্রনিক সামগ্রী হিসেবে তাঁর নামে রয়েছে ৭৯ লাখ ৬১ হাজার ৩৩৫ টাকার এবং স্ত্রীর নামে ২৫ লাখ টাকার সামগ্রী। আসবাবপত্রে তাঁর নামে রয়েছে ২০ লাখ টাকার এবং স্ত্রীর নামে ৫ লাখ টাকার সম্পদ।অস্ত্র হিসেবে তাঁর নামে রয়েছে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের একটি পিস্তল ও একটি শটগান। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তির মূল্য তাঁর ক্ষেত্রে ৪ কোটি ৫৬ লাখ ৬৪ হাজার ১৪ টাকা এবং স্ত্রীর ক্ষেত্রে ৮ কোটি ৫৯ লাখ ৬৭ হাজার ৮৪৮ টাকা।অস্থাবর সম্পত্তির অর্জনকালীন মোট মূল্য দেখানো হয়েছে তাঁর নামে ৮৯ কোটি ৯২ লাখ ৯৬ হাজার ২২০ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৭০ কোটি ৪০ লাখ ৫০৫ টাকা। স্থাবর সম্পত্তির হিসাবে তাঁর নামে রয়েছে ৬৭ লাখ ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা মূল্যের ৫৪৬ শতাংশ কৃষিজমি এবং স্ত্রীর নামে রয়েছে ৫০ লাখ টাকা মূল্যের ৩৫৩ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি।আয়কর সংক্রান্ত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল আয়কর দিয়েছেন ৩ কোটি ১৪ লাখ ৪৯ হাজার ২১৭ টাকা। তাঁর স্ত্রী আয়কর দিয়েছেন ৩ কোটি ৩ লাখ ৩১ হাজার ২৪১ টাকা।

টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখিপুর) আসনের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম তার হলফনামা পেশ করেছেন। তিনি পেশায় শিক্ষক, শিক্ষাগত যোগ্যতা এমএ। তার স্ত্রী গৃহিনী।হলফনামায় তিনি তিনটি মামলা উল্লেখ করেছেন, যেগুলো থেকে খালাস পেয়েছেন। তাঁর আয় মূলত শিক্ষকতা থেকে চার লাখ ৬৩ হাজার ৪৮৬ টাকা এবং কৃষি থেকে ২৩ হাজার ৭৬০ টাকা।অস্থাবর সম্পদ হিসেবে তার নগদ ২১ লাখ ১ হাজার ৭৯ টাকা এবং ব্যাংকে জমা ১৪ হাজার ৩৫৫ টাকা। উপহার হিসেবে প্রাপ্ত নিজের ও স্ত্রীর ১৫ ভরি স্বর্ণ রয়েছে। এছাড়া তিন লাখ পাঁচ হাজার টাকার আসবাবপত্র ও ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী রয়েছে।স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নিজের ও নির্ভরশীলদের তিনতলা ভবন, বাণিজ্যিক স্পেস এবং সাড়ে ১১শ’ শতাংশ জমি, যার মোট মূল্য এক কোটি ৬০ লাখ ৭১ হাজার ২৩০ টাকা। তিনি এক লাখ ৫৮ হাজার টাকার হাউজ লোনও ধার করেছেন।

সংবাদটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ