শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:১৩ অপরাহ্ন

সখিপুরে বন বিভাগের জমি জালিয়াতি করে লিজ নিয়ে স্থাপনা নির্মাণ, সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহের বাঁধা 

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১১১ বার পড়া হয়েছে
 টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার বহেড়াতৈল ইউনিয়নের বেতুয়া মৌজায় বন বিভাগের প্রায় এক একর (১০০ শতাংশ) জমি দখল করে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। জানা গেছে, বেতুয়া মৌজার খতিয়ান নং–২ ও দাগ নং–২৭৬৫ এর বন বিভাগের ভূমি ‘১ নং খাস খতিয়ান’ দেখিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে লিজ নিয়েছেন ওই এলাকার আবু সাঈদ নামের এক ব্যক্তি।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বন বিভাগের জমি জালিয়াতি করে লিজ নিয়ে অবৈধভাবে স্থায়ী বাণিজ্যিক মুরগির খামারের জন্য ঘর নির্মাণ শুরু করলে স্থানীয় বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। তবে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আবু সাঈদ নির্মাণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। আরো জানা যায়, আবু সাঈদ এলাকায় একজন মামলাবাজ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত । এমনকি  তারা বিভিন্ন অসামাজিক কাজে জড়িত। গত কয়েক মাস আগে প্রায় ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধ পিতাকেও পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছিল। আহত হয়ে বৃদ্ধ পিতা সখিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে  চিকিৎসা নিয়েছেন।গত কয়েকদিন আগে এ ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহের জন্য কয়েকজন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী সেখানে গেলে আবু সাঈদ ও তার দুই ছেলে মো. রুবেল ও আলামিন তাদের হুমকি দেয় এবং সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহে বাধা প্রদান করে। এলাকাবাসী ধিক্কার দিয়ে জানায় আলামিন কালিহাতী উপজেলার এক প্রবাসীর স্ত্রীকে প্রায় দেড় কোটি টাকা নিয়ে ভাগিয়ে  নিয়ে এসেছে।   স্থানীয়দের অভিযোগ, খতিয়ান নম্বর ও জমির ধরণ পরিবর্তন করে প্রতারণার মাধ্যমে আবু সাঈদ বন বিভাগের জমি লিজ নিয়েছেন। তবে নিজের কোনো কাগজপত্র সে কাউকে দেখায় না। এর কারণ হিসেবে তারা জানান কাগজ দেখালেই আবু সাঈদের জালিয়াতি প্রকাশ পাবে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং তারা দখলকৃত বনভূমি উদ্ধারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।স্থানীয়দের দাবি, বন বিভাগের সম্পত্তি রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে এ ধরনের দখলবাজি আরও বাড়বে এবং বনভূমি ধ্বংসের মুখে পড়বে। আবহাওয়া, জলবায়ু পড়বে হুমকির মুখে।
বন বিভাগের স্থানীয় ডিবি গজারিয়া(কৈয়ামধু) বিট কর্মকর্তা মাহমুদুল বলেন, বনের জমিতে ঘর নির্মাণের খবর পেয়ে বন্ধ করে দিয়েছি। বন বিভাগের বহেড়াতৈল রেঞ্জ কর্মকর্তা এমরান আলী জানান,তাদের বিরুদ্ধে যথারীতি বন আইনে মামলায দায়ের করা হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারি কমিশনার (ভূমি) শামসুন নাহার শিলা জানান, জমিটি বন বিভাগের নাকি খাস জমি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংবাদটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ