টেলিগ্রামে বিদেশি বিনিয়োগের নামে প্রতারণা: পৃথক ০২ মামলায় আরও ০৩ জনকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি
সংবাদ দাতার নাম
-
প্রকাশের সময় :
সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
-
৫৩
বার পড়া হয়েছে
- জনতার কন্ঠ ডেস্ক
- টেলিগ্রামে বিদেশি বিনিয়োগের নামে প্রতারণা: পৃথক ০২ মামলায় আরও ০৩ জনকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি।টেলিগ্রামে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া বিনিয়োগ গ্রুপ পরিচালনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে বিপুল অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় পৃথক ০২ মামলায় আরও ০৩ জনকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।পল্টন (ডিএমপি) থানার মামলা নং- ০২, তারিখ-০১/১১/২০২৫ খ্রি., ধারা- ৪২০/৪০৬/১০৯/৩৪ পেনাল কোড-এর তদন্তের ধারাবাহিকতায় সিআইডির ঢাকা মেট্রো পূর্ব বিভাগের একটি আভিযানিক দল গত ২২/০২/২০২৬ খ্রি. নারায়নগঞ্জ জেলার বন্দর থানাধীন ডক শিপইয়ার্ড এলাকা হতে তাদেরকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের নাম (০১) মো. ইমরান (৩২), পিতা- মনির হোসেন, মাতা- আলেয়া বেগম- সাং-গ্রাম- দড়ি সোনাকান্দা, থানা- বন্দর, জেলা-নারায়ণগঞ্জ, বাংলাদেশ এবং (০২) মো. ফাহিম (২৪), পিতা- আলাউদ্দিন, মাতা- মনোয়ারা বেগম, সাং- গ্রাম- চর বাটা (এছাহার মোল্লার বাড়ী), থানা-চরজব্বর, জেলা-নোয়াখালী। গ্রেফতারকৃত মো. ফাহিম (২৪) অত্র মামলার এজাহার নামীয় ০৫ নং অভিযুক্ত। ফাহিমের ব্যাংক একাউন্টে মামলার বাদী দুই দফায় মোট ৪ লক্ষ ৩৩ হাজার ৪৭৬ টাকা প্রেরণ করে মর্মে জানা যায়।ডিএমপি এর পল্টন (ডিএমপি) থানার মামলা নং- ১০, তারিখ- ০৪/০৯/২০২৫ খ্রি. ধারা-৪২০/৪১৭/৪১৯/৪০৬/১০৯/৩৪ পেনাল কোড কোড-এর তদন্তের ধারাবাহিকতায় (০৩) আসাদুজ্জামান রাব্বি (২৫), পিতা- মো. ফজলুর রহমান, মাতা- আনোয়ারা বেগম, সাং- গ্রাম- ভাণ্ডারা (পার্ট) থানা- রাণীশংকৈল, জেলা-ঠাকুরগাঁও কে গত ২২/০২/২০২৬ খ্রি. ডিএমপির মিরপুর থানাধীন পাইকপাড়া এলাকা হতে গ্রেফতার করে সিআইডি।মামলাটির তদন্তে জানা যায়, প্রতারক চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে টেলিগ্রাম অ্যাপে ‘বিদেশি বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম’ ও অন্যান্য বিভিন্ন আকর্ষণীয় নামে ভুয়া গ্রুপ খুলে অল্প সময়ে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে বিনিয়োগে প্ররোচিত করত। ভিকটিমরা গ্রুপে যুক্ত হলে সেখানে আগে থেকেই যুক্ত কিছু সদস্য বিনিয়োগ করে কীভাবে স্বল্প সময়ে অধিক লাভ করেছে, এমন ভুয়া ও সাজানো পোস্ট দিত। প্রকৃতপক্ষে এসব সদস্যই ছিল চক্রের সক্রিয় সহযোগী এবং পোস্টগুলো ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ প্রলুব্ধ হয়ে গ্রুপের নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) একাউন্টে অর্থ প্রেরণ করত। এসব একাউন্ট অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তৃতীয় ব্যক্তির নামে খোলা ছিল, যাদের অনেকেই প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। পরবর্তীতে প্রতারকরা এসব একাউন্ট ব্যবহার করে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেন ও আত্মসাৎ করত। বহু বিনিয়োগকারী এভাবে সর্বস্ব হারিয়েছে। তদন্তে আরও জানা যায়, প্রতারণার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ নগদে রূপান্তরের জন্য চক্রটি অভিনব কৌশল ব্যবহার করত। মূলহোতা ফারদিন আহমেদ বিভিন্ন গাড়ির শোরুম থেকে ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে গাড়ি ক্রয় করে স্বল্প সময়ের মধ্যে কম দামে বিক্রি করে কাগজে লোকসান দেখিয়ে নগদ অর্থ উত্তোলন করত। এই পদ্ধতিতেই অবৈধ অর্থ ‘ক্যাশ আউট’ করা হতো।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, অপরাধকর্মে ব্যবহৃত ফাহিমের ব্যাংক একাউন্ট নিয়ন্ত্রণ করছিল অপর ধৃত আসামী ইমরান। উক্ত ব্যাংক একাউন্ট নিয়ন্ত্রনের কারনে ইমরান তাকে মাসিক কিস্তিতে কমিশন প্রদান করত। গ্রেফতারকৃত উভয় অভিযুক্তই অবৈধ টেলিগ্রাম গ্রুপের সাথে সক্রিয় ভাবে জড়িত এবং পরস্পর যোগসাজসে এজাহারনামীয় গ্রেফতারকৃত ফাহিম এর ব্যাংক একাউন্ট এর মাধ্যমে ৪৮ লক্ষ টাকা লেনদেন করেছে। সন্দিগ্ধ গ্রেফতারকৃত অভিযুক্ত ইমরান এর মোবাইল ফোনে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নিষিদ্ধ বাইন্যান্স একাউন্টসহ ক্রিপ্টোকারেন্সি সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য পাওয়া যায়।গ্রেফতারকৃত উভয় আসামীকে প্রয়োজনীয় পুলিশ প্রহরায় বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং ১০ (দশ) দিনের পুলিশ হেফাজতে এনে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত (০১) মো. ইমরান (৩২) এবং (০২) মো. ফাহিম (২৪) ইতোপূর্বে গাজীপুর জেলার বাসন থানার মামলা নং-১৭, তারিখ- ১৬/০৯/২০২৫ খ্রি., ধারা- পেনাল কোড-১৮৬০ এর ৪২০/৪০৬ এ গ্রেফতার হয়ে জেল হাজতে আটক ছিলো মর্মে জানা যায়।আসাদুজ্জামান রাব্বি কে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পূর্বে গ্রেফতারকৃত অভিযুক্ত সাগর যোগসাজশে অপরাধকর্ম সম্পৃক্ত থাকার তথ্য পাওয়া যায়। রাব্বির নিকট থেকে জব্দকৃত ডিভাইসে ফেক টেলিগ্রাম আইডির সন্ধান পাওয়া যায়। সাগর এর অবর্তমানে উক্ত অবৈধ টেলিগ্রাম গ্রুপের কার্যক্রম সাগর এর ঘনিষ্ঠ বন্ধু সন্দিগ্ধ গ্রেফতারকৃত আসামী- আসাদুজ্জামান রাব্বি পরিচালনা করে আসছিল মর্মে জিজ্ঞাসাবাদে জানায়। গ্রেফতারকৃত রাব্বি সাগরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং অপরাপর সকল টেলিগ্রাম গ্রুপের সদস্যদের সে ব্যক্তিগত ভাবে জানে মর্মে তথ্য পাওয়া যায়।গ্রেফতারকৃত (০১) মো. ইমরান (৩২), (০২) মো. ফাহিম (২৪) এবং (০৩) আসাদুজ্জামান রাব্বি (২৫) দেরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারণার অপরাধ স্বীকার করে। মামলা সম্পর্কিত আরো তথ্য প্রাপ্তির লক্ষ্যে তাদেরকে ১০ (দশ) দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদনসহ বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম সিআইডির ঢাকা মেট্রো পূর্ব বিভাগ কর্তৃক চলমান রয়েছে এবং প্রতারণা চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।
সংবাদটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
এ বিভাগের আরও সংবাদ